
চট্টগ্রামের বৃহত্তম উপজেলা ফটিকছড়িকে বিভক্ত করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
আগামী বুধবার (১ জুলাই) প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় প্রস্তাবটি পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রি-নিকার সভায় নতুন এই উপজেলা গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, নতুন উপজেলা গঠনের ফাইলটি এখন নিকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিকারের অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন উপজেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। গেজেট প্রকাশের পর শুরুতে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) যোগ দেবেন এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পদে কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে।
বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলায় দুটি থানা, দুটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন রয়েছে। প্রায় সাত লাখ জনসংখ্যার এই উপজেলা বিভক্ত হয়ে নতুনটি গঠিত হলে দেশে মোট উপজেলার সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৯৬টিতে।
তবে প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সীমানা এবং সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও মতানৈক্য রয়েছে।
বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করে আসছে ‘বৃহত্তর সুয়াবিল অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন। তাদের দাবি, এসব এলাকা যুক্ত করা হলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
পাশাপাশি সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়েও দ্বিমত রয়েছে। একটি পক্ষের দাবি, সদর দপ্তর ভুজপুরে হোক। অন্যদিকে আরেক পক্ষ নারায়ণহাট ইউনিয়নের জুজখোলা মৌজায় সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানিয়েছে। স্থান নির্ধারণের এ সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে কয়েকটি গণশুনানিও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগ অবকাঠামোগত দিক থেকে অবহেলিত। নতুন উপজেলা গঠিত হলে প্রশাসনিক সেবাপ্রাপ্তি সহজ হওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
