
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে জয়ী হলেও ঋণখেলাপির দায়ে প্রার্থিতা বাতিলের রায়কে ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী।
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
এ রায়ের ফলে তিনি আর নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। তবে ওই আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে, তা আদালতের সংক্ষিপ্ত রায়ে স্পষ্ট হয়নি।
রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার বিকেল থেকে সীতাকুণ্ড উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন আসলাম চৌধুরীর সমর্থকরা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর তারা অবরোধ তুলে নেন।
এর মধ্যে আসলাম চৌধুরীর মিডিয়া সেল থেকে একটি ভিডিও বার্তা সংবাদমাধ্যমে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আইনি সুযোগ থাকলে তারা রিভিউ করবেন এবং জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তবে এ রায়ের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ পরিচালনা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় আসলাম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন এবং পরবর্তীকালে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছিল। ঋণখেলাপির তৎকালীন সংজ্ঞা অনুযায়ী প্রতিটি পর্যায়ে তিনি বৈধ হয়েছিলেন বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, আপিল বিভাগ নতুন কোনো সংজ্ঞা দিলে সে বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে এ রায়ে জনগণের মতামত ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক। গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এবং ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তা খারিজ করে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখে।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করে আদেশে জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী অংশ নিতে পারবেন। তবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীকে ৫৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান আসলাম চৌধুরী। তবে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনায় নির্বাচন কমিশন ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখায় তার শপথ নেওয়া আটকে যায়।
পরে ফলাফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসলাম। অন্যদিকে আনোয়ার সিদ্দিকী, ব্যাংক এশিয়া ও যমুনা ব্যাংকও পৃথক আপিল করে, যার চূড়ান্ত শুনানি শেষে মঙ্গলবার প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেন আপিল বিভাগ।
