চমেকে ডেঙ্গু ব্লক উদ্বোধন, স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী


প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার এখন থেকে প্রয়োজনীয়তা, অগ্রাধিকার, কার্যকারিতা ও পরিবেশগত বিবেচনা—এই চার বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় চমেক হাসপাতালের ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে স্থাপিত ৫০ শয্যার একটি ডেঙ্গু ব্লক উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতের মতো ব্যক্তিস্বার্থ বা দুর্নীতিনির্ভর প্রকল্প নয়, বরং যেসব উদ্যোগে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে, সরকার সেসব প্রকল্পেই বিনিয়োগ করবে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করা।

তিনি জানান, প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই চার বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের পুরো স্বাস্থ্যখাতেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।

স্বাস্থ্যখাতের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু বাজেটের আকার বাড়ানো বা অবকাঠামো নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্যসেবার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যসেবার পুরো ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। চিকিৎসক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রচলিত খারাপ চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করতে সরকার এক লাখ কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হলে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী এর কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবহারের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সফল অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রশাসনিক দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন আর্থিক দায়, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সত্ত্বেও সরকার একটি সাহসী বাজেট প্রণয়ন করেছে বলে মন্তব্য করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হলেও বর্তমান সরকার অতীতের মতো এবারও সফলভাবে তা বাস্তবায়নে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করবে বলে অর্থমন্ত্রী আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।