ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার, মামলা করতে নারাজ পরিবার


চট্টগ্রামের পটিয়ায় আট বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজ উল্লাহকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তিনি পার্শ্ববর্তী বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর করলদ্বীপ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ ইলিয়াছের ছেলে।

পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ঈশ্বরখাইন চৌধুরীপাড়া আজিজিয়া নজিরিয়া তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী কিছুদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে পাইলস সন্দেহ করলেও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে ধর্ষণের বিষয়টি সামনে আসে।

পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিশু জানায়, মাদ্রাসার শিক্ষক আজিজ উল্লাহ এবং একই প্রতিষ্ঠানের আরও তিন শিক্ষার্থী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জানান, মামলা হলে মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং পারিবারিক সম্মান ক্ষুণ্ন হতে পারে। এই আশঙ্কায় তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইছেন না।

জানা গেছে, মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলায় পাঠদান কক্ষের পাশেই অভিযুক্ত শিক্ষকের থাকার জায়গা ছিল। সেখানেই ওই শিশুর সঙ্গে অমানবিক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠার পর দ্বিতীয় তলার শিক্ষার্থীদের নিচতলায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক আব্দুল্লাহ নজিরী বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পরামর্শে মাদ্রাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত আজিজ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্য অভিযুক্তদের থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। মামলা হলে আজিজ উল্লাহকে ওই মামলার আসামি হিসেবে দেখানো হবে।