
চট্টগ্রামের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অরবিট ক্রেডিট স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং শরীফা আর্ট স্কুলসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মো. আমিরুল হককে (এমরুল কায়েস) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তিনি শিক্ষাঙ্গনে বেশ সুপরিচিত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রোববার দুপুরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ আমিরুল হকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে নগরীর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা এলাকা থেকে সাদা পোশাকে চান্দগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ৮৪ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি তিনি।
মামলার এজাহারে তার নাম ‘মো. ইমরুল কায়েস’ উল্লেখ থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম ‘মো. আমিরুল হক’ বলে জানা গেছে।
আমিরুল হকের স্ত্রী অধ্যক্ষ জেসমিন সোলতানা রিভা দাবি করেন, তার স্বামী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে শরীফা আর্ট স্কুল এবং শরীফা সুন্দর লেখার স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তিনি ন্যায়বিচারের আশায় উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাবার গ্রেপ্তারে আমিরুল হকের জ্যেষ্ঠ কন্যা ও চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী তাজকিয়া আমির মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এতে তার পরীক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিকে আমিরুল হককে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেছে বাঁশখালীর ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদ।
সংগঠনটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাংবাদিক বেলাল উদ্দিন এক বিবৃতিতে দাবি করেন, স্থানীয় এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন আমিরুল। অরাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তাকে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে হয়রানিমূলকভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। উল্টো তিনি জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় অনুদান দিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আমিরুল হকের গ্রেপ্তারের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সাবেক ছাত্রনেতা কাজী মুহিব উল্লাহ, একুশে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শামিম উল্লাহ আদিল, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম দক্ষিণের সমন্বয়কারী শাহেদুল আলম সিকদার এবং কুয়েত প্রবাসী নাসির উদ্দীনসহ অনেকেই তাকে শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
