
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যেই বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল আসায় গ্রাহকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মে মাসের তুলনায় জুন মাসে অনেকের বিল দ্বিগুণ আসার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি বিদ্যুৎ কার্যালয়েও বিস্তর অভিযোগ জানাচ্ছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।
পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্র জানায়, পুরো উপজেলায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় দুই লাখ দুই হাজার ৫০০। বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় অন্তত তিন থেকে চার হাজার গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা পিক আওয়ারে ৩৬ এবং অফপিক আওয়ারে ৩২ মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ মিলছে ২২ থেকে ২৪ মেগাওয়াট। অনেক সময় সরবরাহ এর চেয়েও কমে যাওয়ায় নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনরাতের প্রায় অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুতের দাম বাড়ার পর থেকে সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও জুন মাসে অস্বাভাবিক বিল এসেছে। এছাড়া ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক আবদুর রহমান জানান, মে মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ৪৫০ টাকা থাকলেও জুন মাসে তা ৮৫০ টাকা এসেছে।
একইভাবে আজিমনগর গ্রামের বশির উদ্দিনের বিল এক হাজার ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে দুই হাজার ৩২০ টাকা, ধুরুং গ্রামের আবু জাফরের বিল ৭০০ টাকা থেকে এক হাজার ১১০ টাকা এবং নাজিরহাট পৌর সদরের বাসিন্দা সাংবাদিক রফিকুল ইসলামের বিল এক হাজার ৮৬৭ টাকা থেকে বেড়ে দুই হাজার ১৩০ টাকা হয়েছে।
সাবেক সরকারি কর্মচারী মুহাম্মদ আজগর আলী জানান, তার ভবনের ছয়জন ভাড়াটিয়া দিনের বেলায় বাসায় না থাকলেও সবার বিল বেড়েছে। তার নিজের বিল দুই হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে তিন হাজার ১৫০ টাকা হয়েছে।
আবদুল্লাহপুর গ্রামের লতিফুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এলাকায় বিদ্যুৎ যায় না, বরং মাঝেমধ্যে আসে। বারবার অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করছে না।
সার্বিক বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আলতাফ গহর চৌধুরী বলেন, সাধারণত প্রতি মাসে মিটার রিডিং নিয়ে বিল করা হয়। ঈদুল আজহা ও বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার কারণে বিল বেশি আসতে পারে।
সরকার নির্ধারিত বিদ্যুতের ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রভাবও বিলে পড়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কোথাও মিটার রিডিংয়ে ভুল হলে গ্রাহকের অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত সংশোধন করা হবে।
