
টানা ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে আবারও তীব্র জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।
মঙ্গলবার সকালের দিকে নগরীর বেশিরভাগ নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন।
পতেঙ্গা আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী ও কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাতেই বৃষ্টি হয়েছে ৬০ মিলিমিটার।
অতিবৃষ্টির কারণে সাগরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে এবং পাহাড়ধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে আবহাওয়া কার্যালয় থেকে জানানো হয়। পাহাড়ধসের শঙ্কা থাকায় সোমবার সকাল থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা বৃষ্টিতে নগরীর আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, মুরাদপুর, সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকা, কাতালগঞ্জ, মোহরা, বড়পোল, কমার্স কলেজ, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া এবং কাট্টলীর ঈশান মহাজন সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সড়কে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও ছিল অনেক কম।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে নগরীর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
সকালে ফরিদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা ইফতেখার উদ্দিন ও আগ্রাবাদ এলাকার চাকরিজীবী জোবায়ের হোসেন জানান, রাস্তায় হাঁটুসমান পানি থাকায় ঘর থেকে বের হতে এবং অফিসে পৌঁছাতে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
সকালে কাতালগঞ্জ এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি জানান, টানা প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। ভারী বর্ষণে লালখান বাজারে দুই-তিনটি বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। এছাড়া বিমানবন্দর সড়কের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চসিকের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা জানান, ভারী বর্ষণের সঙ্গে সকালে জোয়ার যুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় পানি জমেছে। তবে নালা ও খাল পরিষ্কার থাকায় পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে।
এদিকে, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড বর্তমানে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। গত আট থেকে দশ বছর ধরে চলা এসব প্রকল্পে গত মার্চ পর্যন্ত ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা ব্যয় হলেও নগরবাসী এখনও সুফল পাননি।
