- শেখেরখীল হিন্দুপাড়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট পরিদর্শনে যান বাঁশখালীর ইউএনও রুহুল আমিন
টানা বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে বাঁশখালীর প্রায় ২০ হাজার মানুষের পানিবন্দি হওয়ার সংবাদ ‘একুশে পত্রিকা’য় প্রকাশের পর জরুরি সভা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সভায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সতর্ক করতে মাইকিং এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরাসরি নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন জানান, প্রত্যেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে এই জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পানিবন্দি মানুষদের দ্রুত স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। এ সময় জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালীতে প্রায় ৪০ হাজার পরিবার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে। ভারী বৃষ্টিতে এসব পরিবারের মধ্যে প্রাণহানির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাঁশখালী ইকোপার্কের পরিচালক ও ফরেস্ট রেঞ্জার ইসরাইল হক জানান, পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে ইউএনওর নির্দেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
জানা যায়, মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকার কারণে অনেকেই পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি তৈরি করেছেন। বর্ষাকালে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে ধসের শঙ্কা তৈরি হয়। অতীতে বাঁশখালীর শীলকূপসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরাতে এর আগে বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পুনর্বাসনের অভাবে মানুষ আবারও পাহাড়ের ঢালে ফিরে আসে। বর্তমানে শীলকূপ, চাম্বল, পুঁইছড়ী, নাপোড়া, জলদী, পাইরাং, গুনাগরী, কালীপুর, সাধনপুর ও পুকুরিয়া এলাকায় বহু মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পূর্বাভাসে বেসরকারি সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ জানিয়েছে, আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার দেওয়া ওই সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, কয়েক দিন ধরে নিয়মিত ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। তাই পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

