
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ডলু নদীর পানি প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে পৌর এলাকায় প্রবেশ করায় জলমগ্ন হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।
বন্যার পানিতে সাতকানিয়া আদালত চত্বর ও মূল ভবন প্লাবিত হওয়ায় বুধবার বিচারিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সাতকানিয়া আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এডিশনাল জিপি) মো. রাশেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আদালত চত্বর ও কক্ষে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রক্ষার স্বার্থে যৌথ জেলা জজ আদালত এবং সাতকানিয়া চৌকি আদালতের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডলু নদীর পানি বেড়ে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরও প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে।
পরিষদ মাঠের বিস্তীর্ণ অংশ তলিয়ে যাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। উপজেলা পরিষদ এলাকাসংলগ্ন সড়কেও পানি ওঠায় দুর্ভোগ বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ডলু নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। একপর্যায়ে নদীর পানি প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ে।
বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে আসা অনেক বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবী আদালত প্রাঙ্গণে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হন। আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি বাড়তে থাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতির আইসিটি সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে বন্যার পানি আদালত ভবনে প্রবেশ করায় বিচারিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সাতকানিয়া আদালত টিনঘেরা অস্থায়ী কাঠামোতে পরিচালিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই ভবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে।
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও সাতকানিয়ার মানুষের জন্য একটি আধুনিক ও স্থায়ী আদালত ভবন নির্মিত না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। দ্রুত একটি যুগোপযোগী ও পূর্ণাঙ্গ আদালত ভবন নির্মাণের দাবি জানান এই আইনজীবী নেতা।
পানি নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
