ফটিকছড়িতে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই হালদার পানি, প্রস্তুত ২১ আশ্রয়কেন্দ্র


টানা তৃতীয় দিনের মতো ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যে উপজেলার এইচএসসি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

অব্যাহত বৃষ্টিতে হালদা নদীসহ উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ের পানি দ্রুত বাড়ছে। হারুয়ালছড়ি ও ধর্মপুরসহ কয়েকটি এলাকায় পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন এবং ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভার মোট ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে এ আদেশ জারি করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রাখতে হবে।

প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার, নিরাপদ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার স্যালাইনসহ জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী, শিশু, বয়স্ক ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে হালদার পাশাপাশি ধুরুং, লেলাং, কুতুবছড়ি, বারমাসিয়া, ফটিকছড়ি, হারুয়ালছড়ি, গজারিয়া, শোভনছড়ি ও সর্তা খালের পানিও দ্রুত বাড়ছে। পানি আরও বাড়লে নদীসংলগ্ন ও নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে হালদা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এ অবস্থায় নদীতীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।