
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কবাখালী, মেরুং ও বোয়ালখালীসহ কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকার বাড়িঘর, আঙিনা ও সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে মাইনী নদীর পানি বাড়ায় দীঘিনালা-সাজেক সড়কের একাধিক অংশ তলিয়ে গেছে। এতে রাঙামাটির সাজেক ও লংগদুর সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকেরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সকাল থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদি পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। অনেক জায়গায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে নদীর পানি দ্রুত বেড়ে হঠাৎ করেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। ফলে অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।
কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা (জ্ঞানো) জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের জন্য নিরাপদ খাবার পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে। তাদের রান্না করা ও শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদে রাখতে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ইউএনও।
