হাটহাজারীতে তলিয়ে গেছে সড়ক, ত্রাণ নিয়ে মানুষের কাছে প্রতিমন্ত্রী


প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উপজেলা সদরের সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের সরাসরি যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের বড়দিঘীর পাড় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের খিল্লাপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি হাটহাজারী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমপাড়া এবং মেখল ইউনিয়নের ইছাপুর এলাকায় যান। সেখানে তিনি পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী সব সময় মানুষের পাশে আছেন। তার নির্দেশনায় চট্টগ্রামের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে যথাসময়ে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

এদিকে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে হাটহাজারীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অক্সিজেন-হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়ক পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়ায় বড়দিঘীর পাড়, নন্দীরহাট ও এনায়েতপুর এলাকা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলাচল করছে। অপেক্ষাকৃত বড় গাড়ি ছাড়া ছোট যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।

উপজেলার অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢল ও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ফরহাদাবাদ বংশাল, সৈয়দ কোম্পানি, এনায়েতপুর গুমানমর্দন, গুমানমর্দন ডিসি, মেখল গড়দুয়ারা, ফতেপুর মাদার্শা ও অক্সিজেন কুয়াইশ সড়ক উল্লেখযোগ্য।

হালদা নদীর ঢলের তোড়ে নাঙ্গলমোড়ার কাউন্যারহাট বাজার এলাকায় নির্মিত একটি অস্থায়ী বাঁশের সেতু ভেসে গেছে। ফলে পূর্বদিকের দক্ষিণ ফটিকছড়ি ও উত্তর রাউজানের মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।

ছিপাতলী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ লোকমান জানান, চারিয়া-কাজিরখীল মুরাদ সড়কের অংশবিশেষ তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কাজিরখীল ছিপাতলী এলাকার অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মুন্দারী ছড়ার কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করছেন স্থানীয়রা।

মধ্যম মাদার্শা সার্বজনীন শান্তি নিকেতন বৌদ্ধবিহারে পানি ঢুকে পড়ায় ধর্মীয় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক তপন কান্তি বড়ুয়া হারুন।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া অঘোষিতভাবে বন্ধ রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনগুলো।

নিরাপত্তার স্বার্থে এনায়েতপুর, গুমানমর্দন, শিকারপুর, বুড়িশ্চরসহ কয়েকটি স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। শিকারপুর ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান এম লোকমান হাকিম জানান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়িঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।