বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জামায়াত আমিরের


বাংলাদেশ কেবল সরকারি দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের দেশ। জনগণকে সংসদে পাঠানো হয়েছে তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য, কেবল বসে থাকার জন্য নয়।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। বাঁশখালীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে তিনি এই বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে চারটিই বন্যায় দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এসব এলাকার মানুষ অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন।

নিজেদের ত্রাণ কার্যক্রমকে ‘উপহার’ হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী একটি সংগঠন হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

বন্যায় প্রাণ হারানো প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারকে আগামী তিন দিনের মধ্যে মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সরকারি তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা করাকে সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, ফসল নষ্ট হয়েছে বা মাছের ঘের ভেসে গেছে, তাদের সঠিক তালিকা করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ও বেসরকারি সাহায্যে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন শফিকুর রহমান।

জনগণের পাওনা যেন তাদের কাছে পৌঁছায় এবং কোনো ডাকাত যেন তাতে হাত বসাতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি। সুযোগসন্ধানীরা যেন সাধারণ মানুষের হক কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন।

এর আগে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা সরেজমিনে দেখতে শুক্রবার সকালে তিনি চট্টগ্রাম সফর শুরু করেন। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

সফরকালে বাঁশখালী, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন জামায়াতে ইসলামীর এই শীর্ষ নেতা।