চকরিয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুর মৃত্যু


বসতবাড়িতে পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে পড়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়েছিলেন আবদুল জলিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই খরস্রোতা বন্যার পানিতে নৌকা ডুবে তার এক মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল দশটার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত ১২ বছর বয়সী শিশুর নাম হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা।

স্থানীয় লোকজন আট বছর বয়সী আরেক শিশু জেরিন আক্তারকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা টানা চার ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে নিখোঁজ ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করেন।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান এই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন।

তিনি জানান, টানা বৃষ্টি ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বসতবাড়ি তলিয়ে যায়।

এ অবস্থায় তিন মেয়েকে নিরাপদে রাখতে নৌকায় করে নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন আবদুল জলিল।

কিছুদূর যাওয়ার পরই প্রবল স্রোতে নৌকাটি ডুবে যায়।

এতে মুহূর্তে ভেসে যায় দুই মেয়ে ঝর্ণা ও জেরিন। তবে ছোট মেয়ে সাওরিনকে শক্ত হাতে ধরে রাখেন বাবা আবদুল জলিল।

চেয়ারম্যান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে প্রাণপণ চেষ্টা চালান। তারা জেরিনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

তবে সে সময় ঝর্ণাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার ও চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসারকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়।

ইউএনও শাহীন দেলোয়ারের নির্দেশে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

দুপুর দুইটার দিকে পানির নিচ থেকে নিখোঁজ ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ইউএনও শাহীন দেলোয়ার জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা নামের এক শিশু মারা গেছে।

উদ্ধারের পর অসুস্থ দুই বোনকে উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তারা সুস্থতা অনুভব করলে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ইউএনও আরও জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহ উদ্ধারের পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন।