
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বালু উত্তোলন বন্ধ করার পর এবার রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
শুক্রবার উপজেলার বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা জানান।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী এদিন পৌরসভার কয়েকটি এলাকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, দুর্যোগের শুরু থেকেই রাঙ্গুনিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
দলের নেতাকর্মীদেরও প্রশংসা করেন তিনি। মানবিকতার পরিচয় দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান সংসদ সদস্য।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।
পাহাড়ধসের ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও অনেক পাহাড়সংলগ্ন বসতবাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের প্রস্তুত রাখা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। আর কেউ নিজ এলাকায় থাকতে চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
টানা অতি ভারী বৃষ্টিতে গত মঙ্গলবার রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী আদর্শ গুচ্ছগ্রাম এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। ওই দিন সকালে পাহাড়ধসে এক নারী আহত হন। বিকেলে আরেক দফা পাহাড়ধসে রেণু আক্তার (৫৬) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়।
প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। নিকটবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
