পটিয়ায় দুর্গতদের পাশে এমপি এনাম, ত্রাণ বাড়াতে চিঠি


চট্টগ্রামের পটিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা বাড়াতে দুর্যোগমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশন শেষে তিনি এই চিঠি দেন। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেন ত্রাণ সহায়তা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর পটিয়ার ধলঘাট ইউনিয়নের ঈশ্বরখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সাংসদ এনামুল হক এনাম।

সেখানে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, পটিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় ত্রাণ সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পটিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে অন্তত দশ হাজারের বেশি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সংসদ সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

পটিয়ার যেসব এলাকায় পানি জমে রয়েছে, সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছেন উল্লেখ করে এলাকার বিত্তবানদেরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এই সাংসদ।

এর আগে তিনি হাঁটুপানি মাড়িয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং যেকোনো সমস্যায় পড়লে তাঁকে জানানোর অনুরোধ করেন।

ত্রাণ বিতরণকালে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান এবং পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মঈনুল আলম ছোটন, পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম এবং ধলঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন।

এছাড়া বিএনপি নেতা আহমদ আলী, এন. আই. করিম, শাহ আলম চৌধুরী, নুরুল আবছার, বেলাল উদ্দীন, আরফ আলী এবং মোহাম্মদ উল্লাহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পাশাপাশি আশরাফুল আলম, আবদুল বারেক, মমতাজ উদ্দীন, নুর হোসেন, আব্বাস উদ্দীন, শিবুল চৌধুরী, আশিক, আবু বক্কর এবং মানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, তাদের হিসাব অনুযায়ী পটিয়ায় প্রায় সাত হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে পানিবন্দি এলাকাগুলোতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর বন্যা পরিস্থিতির তথ্য নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

বর্তমানে ৩৬টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ১২০ জন আশ্রয় নিয়েছেন এবং এক হাজার ৫৫টি শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান ইউএনও।