
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে বিস্তীর্ণ এলাকার ক্ষতচিহ্ন। দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকার পর স্বস্তি ফিরলেও এখন নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব কষছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।
শুক্রবার উপজেলার আমিরাবাদ, আধুনগর, বড়হাতিয়া, পদুয়া, চুনতি ও কলাউজানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা থেকে পানি নামতে দেখা যায়।
তবে কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় এখনও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বসতঘর, আসবাবপত্র, কৃষিজমি, পুকুরের মাছ ও বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বন্যার সময় ঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি ওঠায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্র বা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
আমিরাবাদ ইউনিয়নে ডলু নদীর তীরের বাসিন্দা আবদু রহিম জানান, পানি চলে গেলেও তাদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। ঘরের সব আসবাব নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারি ও বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বড়হাতিয়া ইউনিয়নের গৃহবধূ রোকেয়া বেগম জানান, সন্তানদের নিয়ে তিনি খুব কষ্টে সময় পার করেছেন। পানি নামলেও ঘর কাদায় ভরে থাকায় রান্না করতে সমস্যা হচ্ছে।
আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, পানি কমা স্বস্তির খবর হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি তিনি বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান, পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হচ্ছে। তিনি সংসদ সদস্যকে নিয়ে কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।
ত্রাণ অপ্রতুলতার কথা তুলে ধরেন বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক। তিনি জানান, বহু মানুষের বসতঘর ও জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রশাসনের কাছ থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
