চকরিয়ার পানিবন্দি মানুষের জন্য ২০ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি


টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট নিরসনে ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বানভাসি মানুষের মাঝে ২০ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

টানা ছয় দিনের অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত এবং মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এতে চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকার ১৮টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রায় চার লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

অধিকাংশ এলাকার সুপেয় পানির উৎস এবং নলকূপ বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র হাহাকার তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চকরিয়া উপজেলা কার্যালয় দুর্গত মানুষের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছে।

শুক্রবার দুপুর থেকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘুরে মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে পানি সরবরাহ শুরু করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার পৌরসভা এলাকায় এই বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব এবং উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য) ইফতেখারুল আলম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আল-আমিন বিশ্বাসসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এই কার্যক্রম সম্পর্কে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আল-আমিন বিশ্বাস জানান, বর্তমানে বানভাসি মানুষ বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকটে রয়েছেন।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকার বন্যাদুর্গত এলাকায় সুপেয় পানি বিতরণের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ২০ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি দুর্গতদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে।

দুর্যোগ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তীতে পানি বিতরণের এই কার্যক্রম আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।