রাতে বালু উত্তোলন, সকালে বিক্রি, ঝুঁকিতে আনোয়ারার সড়ক


ভোরের আলো ফোটার আগেই বৈরাগের সিইউএফএল সড়কে শুরু হয় কাজ। ছড়া থেকে রাতভর তোলা বালু ততক্ষণে সড়কের পাশে স্তূপ হয়ে গেছে। কেইপিজেডের শ্রমিকবাহী বাস আসে ভোরে- চালক হর্ন বাজান, কিন্তু পথ নেই। বালুর গাড়ির পাহাড় ডিঙিয়ে এগোতে হয় সাবধানে। একটু এদিক-ওদিক হলেই দুর্ঘটনা।

এভাবেই প্রতিদিন সকাল শুরু হয় আনোয়ারার বৈরাগ তেলের দোকান এলাকায়। রাতে চলে অবৈধ বালু উত্তোলন, সকালে চলে বিক্রি- আর দিনভর ভোগান্তি পোহান সাধারণ মানুষ।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে রাতের ব্যবসা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ এলাকায় সিইউএফএল সড়কের পাশের ছড়া থেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু তুলছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে তোলা সেই বালু সরাসরি সড়কের পাশে রেখেই সকালে বিক্রি করা হচ্ছে আবাসন ও ভবন নির্মাণকারীদের কাছে। প্রতি ট্রাক চার হাজার টাকা দরে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “ফয়েজ, দিদারসহ কয়েকজন সিন্ডিকেট করে দীর্ঘদিন ধরে এই বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এরা এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী।”

তিনি সতর্ক করেন, এভাবে চলতে থাকলে বৈরাগের পূর্ব পাড়া ও পশ্চিম পাড়ার পাঁচ-ছয়টি কালভার্ট চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।

সড়কের গাইড ওয়াল হেলে পড়েছে, ঢালাইয়ের প্লেটও নড়ে গেছে

শুধু যাতায়াতের সমস্যা নয়, এই অবৈধ বালু উত্তোলন সরাসরি হুমকি ফেলছে সরকারি অবকাঠামোয়। অতিরিক্ত বালু তোলায় সড়কের নিরাপত্তা গাইড ওয়াল হেলে পড়েছে। খালের অপর পাশের মাটি ধসে যাচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের চলমান উন্নয়নকাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

দোহাজারী (দক্ষিণ চট্টগ্রাম) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান পারভেজ বলেন, “বালু উত্তোলনের কারণে সড়কের আগে তৈরি করা একটি গাইড ওয়াল হেলে পড়েছে। ঢালাই দেওয়ার জন্য বসানো প্লেটসিট বক্সও হেলে গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানাব।”

অভিযুক্ত বালু উত্তোলনকারী আবুল ফয়েজের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিজে কথা না বলে দিদার নামে এক ব্যক্তিকে ফোন ধরিয়ে দেন। নিজেকে মেরিন একাডেমির ড্রাইভার দাবি করে দিদার বলেন, “সবাই আসে আমার কাছে, আপনিও আসেন, চা খেয়ে যান।” জবাবদিহির বদলে চায়ের আমন্ত্রণ- এটাই এই সিন্ডিকেটের দুঃসাহসের প্রমাণ।

আনোয়ারার ইউএনও মো. মহিন উদ্দীন বলেন, “বিষয়টি অবগত হলাম। খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাত হলেই ছড়া থেকে বালু ওঠে, ভোরে সড়কে স্তূপ হয়, সকালে বিক্রি হয়। আর সরকারি সড়ক, কালভার্ট, গাইড ওয়াল- একটু একটু করে ধসে যায়। সিন্ডিকেট চলে, কেইপিজেডের হাজারো শ্রমিক ঝুঁকি নিয়ে পথ পার হন, আর প্রশাসন জানে বলার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। প্রশ্ন একটাই- এই দুঃসাহস থামবে কখন?