
ভৌগোলিক বাস্তবতা ও স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় সুয়াবিল ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়ন অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম এই অভিযোগ করে।
প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা থেকে সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফোরামের নেতারা জানান, ফটিকছড়ি উপজেলার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে ভুজপুরকে উপজেলা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
২০২১ ও ২০২৩ সালে সুয়াবিল ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে উত্তরের পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।
ওই পাঁচ ইউনিয়ন হলো বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভুজপুর ও হারুয়ালছড়ি।
ফোরামের দাবি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের ২০২৩ সালের সরেজমিন প্রতিবেদনেও সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং নাজিরহাট পৌরসভার ওই তিন ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে সুয়াবিল ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হলে এলাকাবাসী আপত্তি জানায়।
দাবি আদায়ে তারা গণস্বাক্ষর, স্মারকলিপি, সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
তারা জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারির এক চিঠিতে সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বাদ দেওয়ার নির্দেশনা ছিল।
ওই চিঠিতে উত্তরের পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে ভুজপুর উপজেলা গঠনের বিষয়ে নতুন প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠন ও সদর নির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে তিনটি রিট মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
মামলাগুলো হলো ১৪৭৮/২০২৬, ২১৭৮/২০২৬ এবং ৪৪৮৯/২০২৬।
বিচারাধীন এসব বিষয় নিষ্পত্তির আগে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে দাবি করেন ফোরামের নেতারা।
তারা বলেন, সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের সঙ্গে রয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভৌগোলিক দিক থেকেও এই সংযুক্তি বাস্তবসম্মত নয় বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
সুয়াবিল এলাকা থেকে বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার।
অন্যদিকে প্রস্তাবিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদরের দূরত্ব সুয়াবিল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাহার।
পাশাপাশি জনগণের মতামত ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়।
আদালতে বিচারাধীন বিষয় নিষ্পত্তির আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উপজেলা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবিও তুলে ধরেন তারা।
ফোরামের নেতারা জানান, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি জনস্বার্থভিত্তিক শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলন।
জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুয়াবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
