বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দশ লাখ মানুষ, জনপ্রতি জুটল তিন কেজি চাল ও ২৮ টাকা


দেশের সাত জেলায় চলমান বন্যায় দশ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বরাদ্দের হিসাবে এই দুর্গতদের জন্য মাথাপিছু নগদ বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৮ টাকা।

পাশাপাশি জনপ্রতি চালের বরাদ্দ পড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ২ কেজি।

রোববার মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে এসব হিসাব পাওয়া গেছে।

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ছয় দিনে সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল নগদ বরাদ্দ দিয়েছে।

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে।

এই সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন।

বন্যার কারণে বর্তমানে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের সদস্যরা পানিবন্দি রয়েছেন।

এর মধ্যে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন অবস্থান করছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ।

২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ মানুষের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ পড়ে মাত্র ২৮ টাকা।

অন্যদিকে পানিবন্দি পরিবারগুলোর হিসাবে পরিবারপ্রতি নগদ বরাদ্দ দাঁড়ায় প্রায় ১০৬ টাকা।

বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে।

চট্টগ্রামে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার।

এই জেলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাসহ সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন মানুষ।

বাকি জেলাগুলোর মধ্যে বান্দরবানে ১২ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।

এছাড়া মৌলভীবাজারে ৭ হাজার ৩০৮টি, হবিগঞ্জে ৬ হাজার ৪৪৪টি, রাঙামাটিতে ১ হাজার ৪৪টি এবং খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৭৩টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সহায়তায়ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে।

তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বিপুলসংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয় ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনের তুলনায় বর্তমান বরাদ্দ বেশ সীমিত।

বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি পুনর্বাসন সহায়তাও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।