চেয়ারম্যানের সমালোচনা করায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে কান ধরে ওঠবস


চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার জেরে রোববার (১২ জুলাই) সকালে ভুজপুর ইউনিয়ন পরিষদে এক ব্যক্তিকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনা ঘটেছে।

এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী যুবকের নাম মোহাম্মদ হাসেম। তিনি ৪৪ বছর বয়সী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষক। তিনি ভুজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভুজপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, ফটিকছড়ি উপজেলাকে বিভক্ত করে ফটিকছড়ি উত্তর নামের নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে নতুন এই উপজেলার সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণ নিয়ে উত্তর ও দক্ষিণের বাসিন্দাদের মধ্যে আন্দোলন চলছে।

এই ইস্যুতে ভুজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এস এম শাহজাহান শিপনের বিরুদ্ধে একক ইন্ধনের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন মোহাম্মদ হাসেম।

স্থানীয়দের দাবি, মোহাম্মদ হাসেম শুধু চেয়ারম্যান নয়, ইউপি সদস্যদের নিয়েও এর আগে ফেসবুকে গালাগালি করেছিলেন।

এর জেরে ক্ষুব্ধ লোকজন তাকে রোববার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে ধরে নিয়ে কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করেন।

ভিডিওতে ৪০ থেকে ৫০ জন লোকের উপস্থিতি দেখা যায়। সেখানে তাকে মৌখিক তওবা ও মুচলেকা দিতেও বাধ্য করা হয়।

ঘটনার সহায়তাকারী মো. আজগর ছালেহী জানান, নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার রূপকার চেয়ারম্যান এ এস এম শাহজাহান শিপনকে নিয়ে কটূক্তি করায় ক্ষুব্ধ লোকজন এই কাজ করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ইব্রাহিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এলাকার বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই যুবককে পরিষদে এনে এসব করেছেন এবং জনতার রোষে পড়ার ভয়ে তিনি কোনো বাধা দেননি।

এ বিষয়ে ভুজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এস এম শাহজাহান শিপন কথা বলেছেন।

তিনি জানান, তিনি দিনভর উপজেলায় ব্যস্ত থাকায় এলাকার ঘটনার বিষয়ে জানতেন না।

পরে তিনি জানতে পারেন যে, ফেসবুকে গালিগালাজ করা ওই যুবককে স্থানীয়রা মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন।

ফটিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, বিষয়টি তার জানা নেই।

ক্ষতিগ্রস্ত যুবক আইনের আশ্রয় নিলে তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে এই ঘটনার পর থেকে উত্তর ও দক্ষিণের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

উত্তরের বাসিন্দা মো. তারেকুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের ভয়ে লোকজন সমালোচনা থেকে গুটিয়ে থাকলেও স্বাধীনচেতা হওয়ায় ওই যুবক আক্রান্ত হয়েছেন।

দক্ষিণের বাসিন্দা মো. আরমান এই ঘটনাকে ন্যক্কারজনক আখ্যা দিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।