
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় একটি গোডাউন থেকে ত্রাণের তিন বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নিউটন চক্রবর্তী।
সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উপজেলা থেকে বরাদ্দ পাওয়া এক টন ত্রাণের চাল ইউপি সচিব নিউটন চক্রবর্তী গোপনে এনে ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জাকারিয়ার সহযোগিতায় আত্মসাতের চেষ্টা করেন।
এই কাজে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম তাদের সহায়তা করেন এবং চালগুলো একটি গোডাউনে লুকিয়ে রাখেন।
খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গারাঙ্গিয়া হাতিয়ার পুল বাজার এলাকার ‘মায়ের দোয়া ডেকোরেটর’ নামের ওই গোডাউনে যান।
সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনি তিন বস্তা ত্রাণের চাল উদ্ধার করেন এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেন।
গোডাউনের দায়িত্বে থাকা সিরাজুল ইসলাম ঘটনার বিষয়ে কথা বলেছেন।
তিনি জানান, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম ২০ বস্তা চাল রাখার কথা বলে তার কাছ থেকে গোডাউনের চাবি নেন।
দীর্ঘদিনের পরিচিত হওয়ায় তিনি গোডাউন ব্যবহার করতে দেন, তবে পরে জানতে পারেন সেখানে রাখা চালগুলো সরকারি ত্রাণের।
দুর্যোগকালে অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণের চাল গোপনে গোডাউনে রেখে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অন্যায় বলে মন্তব্য করেন সিরাজুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
এছাড়া অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জাকারিয়া ও সচিব নিউটন চক্রবর্তীর বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
