পানিবন্দি জনপদে ত্রাণ ও সেবাবাহী যান সচল রাখার লড়াই


টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার জনজীবন বিপর্যস্ত হলেও ত্রাণ ও জরুরি সেবাবাহী যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক মেরামতের কাজ চলছে।

বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জরুরি ভিত্তিতে এই সংস্কারকাজ চালাচ্ছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের কর্মীরা।

স্থানীয়রা জানান, সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানিতে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় ভারী যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়।

দুর্ঘটনা এড়াতে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে শ্রমিকেরা দ্রুত ইট ও খোয়াসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার করছেন।

মাইক্রোবাসের মালিক জিয়াবুল হক জানান, টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট খানাখন্দের পর বন্যার মধ্যেও সড়ক বিভাগের কর্মীরা মাঠে থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।

ট্রাকচালক আমিনুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে গর্ত থাকলে ভারী যানবাহন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে, তবে দ্রুত মেরামতের কারণে চলাচল অনেকটাই নিরাপদ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা বর্ষণে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে সারাদেশের অধিকাংশ গাড়ি, ত্রাণবাহী যানবাহন এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার গাড়ি চলাচল করে।

তাই দ্রুত সড়ক সংস্কারের এই উদ্যোগ জনদুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি উদ্ধারকারী দল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দোহাজারী সড়ক ও জনপদ দক্ষিণ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. দিদারুল ইসলাম মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।

তিনি জানান, টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের মইজ্জেটটেক থেকে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত একাধিক স্থানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

যান চলাচল যেন ব্যাহত না হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়, সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি ট্রাকে করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও মহাসড়ক সচল রাখতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং আবহাওয়া অনুকূলে এলে আরও টেকসই সংস্কারকাজ করা হবে বলে তিনি জানান।