
ব্যবসায়িক লেনদেনের জেরে প্রতিপক্ষের চরম অপমান সইতে না পেরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক যুবক।
রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে পটিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাহুলী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
আত্মহত্যার চেষ্টাকারী রহিম বাদশা (৪২) উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রাবণীপাড়া এলাকার মৃত আবদুস ছাত্তারের ছেলে।
তিনি পটিয়া পৌরসদরের ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
জানা গেছে, রোববার রাতে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসায় ছিলেন না।
এ সময় রহিম বাদশা নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ‘আমি আমার খুনের বিচার চাই’ শিরোনামে ২৩ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি লাইভ ভিডিও প্রচার করেন।
ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, ব্যবসায়িক লেনদেন ও চেক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে।
পুলিশি হয়রানি এবং সালিশ বৈঠকে অপমানের কথাও উল্লেখ করে তিনি নিজের হতাশা ও মানসিক কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
লাইভ শেষ হওয়ার পর তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
এ সময় রাজশাহীতে থাকা এক ভাইয়ের কাছ থেকে ফোন পেয়ে প্রতিবেশী মো. আরাফাত কয়েকজনকে নিয়ে ওই বাসায় যান।
দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তারা সেটি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রহিম বাদশাকে উদ্ধার করেন।
দ্রুত তাকে পটিয়া পৌরসদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
রহিমের ছোট বোন শেলি আক্তার অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষরা তার ভাইকে জুতার মালা পরানোর হুমকিসহ বিভিন্নভাবে অপমান করেছে।
এসব ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েই তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন শেলি আক্তার।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
