
চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় পানি নামার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের আর্থিক দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে জুলাই মাসের ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখতে এনজিওগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো বন্যাকবলিত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের হাতে দ্রুত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।
তিনি উল্লেখ করেন, বন্যার পানি নেমে গেলে উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হবে।
যেসব পরিবারের বসতঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো মেরামতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এছাড়া যাদের কৃষিজমি তলিয়ে গেছে, মাছের ঘের ভেসে গেছে অথবা গবাদিপশুর ক্ষতি হয়েছে, তাদের পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
এছাড়াও সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
