লরিতে দুর্বৃত্তের হামলা, আহত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে চালকের মৃত্যু


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরু সড়কে গাড়ির গতি কমার সুযোগে লরিতে হামলা চালিয়ে চালককে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

গুরুতর আহত অবস্থায় লরি চালিয়ে ফেনী পর্যন্ত আসার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই চালকের মৃত্যু হয়।

পরে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকার ফারদিন মডেল পাম্পের সামনে পার্কিং করা ওই লরি থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত লরিচালক জামাল উদ্দিন (৫৬) ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর চর আইচা এলাকার মৃত মুনাফ বেপারীর ছেলে।

লরিচালকের সহকারী বেলাল হোসেন এই ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার ভোর ৩টার দিকে সিলেটের শেরপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে পণ্যবোঝাই লরিটি রওনা দেয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উজানিসার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে সরু সড়কের কারণে লরির গতি কমে যায়।

এ সময় চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লরিতে হামলা চালায়।

তারা প্রথমে লরির সামনের গ্লাস ভাঙচুর করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালক জামাল উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

বেলাল হোসেন আরও জানান, গুরুতর আহত ও আতঙ্কিত অবস্থায় জামাল উদ্দিন নিজেই লরি চালিয়ে ফেনী পর্যন্ত পৌঁছান।

কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।

পরে বিষয়টি অন্য চালকদের জানিয়ে সহকারী বেলাল হোসেন লরিটি জোরারগঞ্জের ফারদিন মডেল পাম্প এলাকায় নিয়ে আসেন।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লরি থেকে চালকের মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং নিহতের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম আরও জানান, ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত হয়েছে।

তাই সংশ্লিষ্ট থানাই মামলাসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।