- ভুক্তভোগী শিবির নেতা এনামুল হক (বামে) ও অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ত্রাণের প্যাকেট না পাওয়ার জেরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছনুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঢনা মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত এনামুল হক (১৮) ছাত্রশিবিরের ছনুয়া ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।
বর্তমানে তিনি বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ছাত্রলীগের ছনুয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি।
তিনি খুদুকখালী গ্রামের ফয়জুনি বাপের বাড়ির নুরুল আমিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী থেকে আসা একটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে ত্রাণ বিতরণ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন এনামুল হক।
ঢনা মার্কেটের সামনে পৌঁছালে মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল লোক তার ওপর হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী এনামুল হক জানান, ত্রাণ বিতরণ শেষে ফেরার সময় মিজানুর রহমান তার কাছে জানতে চান তাকে কেন ত্রাণ বা বিরিয়ানি দেওয়া হয়নি।
এনামুল তাকে জানান যে, সরলিয়া বাজারে তার জন্য প্যাকেট রাখা হয়েছে এবং ঠিক সময়ে তিনি তা পেয়ে যাবেন।
এনামুল অভিযোগ করেন, এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই মিজানুরের নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা শুরু করে।
এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়রা জানান, মিজানুর রহমান ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ছনুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
হারুনুর রশীদ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয়দের কাছে মিজানুর রহমান ‘পাওয়ার মিজান’ নামে পরিচিত।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শেখেরখীল রাস্তারমাথা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর বাঁশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
ওই মামলার ৪১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি হলেন মিজানুর রহমান।
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানিয়েছেন, হামলার বিষয়ে এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

