একমাত্র মাটির ঘর ধসে পড়ল, পাশে নেই কেউ


ভাঙা দেয়ালের সামনে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন ৬৫ বছরের আবদুল বারী। চোখে পানি, কণ্ঠে কথা নেই। যে ঘরে স্ত্রী, দুই ছেলে আর পাঁচ মেয়েকে নিয়ে এতদিন সংসার করেছেন, সেই ঘর এখন কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপের স্তূপ। টানা বৃষ্টিতে মাটির দেয়াল আর কুলাতে পারেনি। একদিন সব ধসে গেল।

সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, “ঘরটি ছিল আমাদের একমাত্র মাথাগোঁজার ঠাঁই। টানা বৃষ্টিতে সেটাও ভেঙে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না।”

বৃষ্টিতে ধসল ঘর, খোলা আকাশের নিচে পরিবার

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের উত্তর হরিনার ওঝা পাড়ায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এই দৃশ্য দেখা গেল। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে আবদুল বারীর একমাত্র মাটির ঘরটি ভেঙে পড়েছে।

আবদুল বারীর স্ত্রী জানান, প্রথমে ঘরের চারপাশের মাটি ধসতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় বৃষ্টির পানি লাগতে লাগতে দেয়াল দুর্বল হয়ে পড়ে। তারপর একটা সময় পুরো ঘরটাই ধসে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন, তাই প্রাণে বাঁচলেন। কিন্তু আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় সব জিনিস ধ্বংসস্তূপের নিচে।

তিনি বলেন, “ঘর ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। মাথা গোঁজার কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। আমরা চাই, কেউ যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।”

নতুন ঘর বানানোর সামর্থ্য নেই, সাহায্যের আকুতি

আবদুল বারী নিজেই জানালেন, ঘর বানানোর মতো সামর্থ্য তাঁর নেই। সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে সাহায্যের আকুতি জানালেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হাসান বলেন, “আবদুল বারী খুবই অসহায় মানুষ। কোনোমতে সংসার চালান। নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা দ্রুত তার পাশে দাঁড়ালে পরিবারটি আবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পেত।”

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।

ভাঙা ঘরের সামনে এখনো বসে আছেন আবদুল বারী। বৃষ্টি এলে পালানোর জায়গা নেই, রাত হলে মাথার উপর ছাদ নেই। সরকারি আশ্বাস এসেছে, কিন্তু আশ্রয় এখনো আসেনি। একটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন গুনছে— কেউ কি পাশে দাঁড়াবেন?