কর্মে না ফেরা পর্যন্ত বন্যার্তদের খাদ্যসহায়তার ঘোষণা ত্রাণমন্ত্রীর


বন্যাকবলিত মানুষ পুরোপুরি কর্মে না ফেরা পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্যসহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী জানান, বন্যার পানি সাময়িকভাবে সরে গেলেও বন্যা-পরবর্তী নানা অসুবিধার মধ্যে দুর্গতদের দিন কাটাতে হবে।

তাই তারা যতদিন কর্মে ফিরে যেতে পারবেন না, ততদিন মন্ত্রণালয় থেকে এই খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব বাড়িঘর মেরামত করার মতো অবস্থায় নেই, তাদের জন্য ঢেউটিন ও নগদ অর্থ পাঠানো হবে।

পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের প্রকল্প পাঠালে মন্ত্রণালয় থেকে তা সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

তারেক রহমানের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে বন্যাদুর্গতদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রীদের এই এলাকা পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য হলো দুর্গত মানুষের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে বেশি করে সহায়তা পাঠানো।

জরুরি ভিত্তিতে খানখানাবাদ ইউনিয়নের জন্য ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানান আসাদুল হাবিব দুলু।

এই চাল বিতরণে কোনো দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

কৃষিতে ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন করে চারা, ধানের বীজ ও সার দেওয়া হবে।

এছাড়া পানিবাহিত রোগে আক্রান্তদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।

এর আগে মন্ত্রী বাঁশখালীর জলকদর খালের খননকাজ পরিদর্শন করেন।

বিগত সরকারের আমলে খাল ও নদী খনন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষিবিপ্লব সাধনে এ ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন।

জলকদর খালটি দেশের ২৫টি মডেল খালের একটি হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান এবং সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানী আকন এবং বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক উপস্থিত ছিলেন।