সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণে অসন্তোষ, জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে হরতাল


চট্টগ্রামের নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক ও সহজ যোগাযোগযোগ্য স্থানে স্থাপনের দাবিতে তিনটি ইউনিয়নে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে।

এই হরতালের কারণে ঢাকা-বারৈয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সকাল থেকে হরতালের সমর্থনে আন্দোলনকারীরা নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজারসহ সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন।

এ সময় তারা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং কর্মসূচি পালন করেন।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ডাকে এই হরতাল পালিত হচ্ছে।

সংগঠনটির দাবি, নতুন উপজেলার সদর দপ্তর এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে, যাতে অন্তর্ভুক্ত ছয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা সমানভাবে যাতায়াত করতে পারেন।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, বর্তমানে ঘোষিত স্থানে সদর দপ্তর হলে অধিকাংশ মানুষের যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হবে।

বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবিতে তারা এর আগে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।

দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ায় তারা হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।

দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলে আন্দোলনের নেতারা সতর্ক করেছেন।

এর আগে, বুধবার উপজেলার হেঁয়াকো বাজারে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সেখানে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন কমিটির সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ।

তিনি জানান, গত ১০ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।

এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলেও সদর দপ্তর স্থাপনের বিষয়ে কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।

তাই বাধ্য হয়ে এই হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, হরতালের কারণে এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।

জনজীবনে এর সুস্পষ্ট প্রভাব পড়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ফটিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।