ফটিকছড়ি উত্তরে সদর দপ্তর নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তেজনা


চট্টগ্রামের নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণ নিয়ে তৈরি হওয়া মতবিরোধের জেরে এলাকায় হরতাল ও পাল্টা অবস্থান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের পক্ষে-বিপক্ষে এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে পুরো নতুন উপজেলাজুড়ে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভৌগোলিকভাবে যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছে উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ।

অন্যদিকে, সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ভূজপুরে পাল্টা অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে আরেকটি পক্ষ।

হরতাল সমর্থকরা সকালে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে হেঁয়াকো ও বালুটিলা বাজার এলাকায় পিকেটিং ও ব্যারিকেড দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন।

এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি এবং ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সড়কের দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী ও দূরপাল্লার যানবাহন আটকা পড়লেও পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

গত ৮ জুলাই সরকার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা ঘোষণা করে এবং গেজেটে সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হয় পশ্চিম ভূজপুর মৌজায়।

আন্দোলনকারীদের মতে, ভূজপুর মৌজা থেকে ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার।

কিন্তু উত্তরের ইউনিয়নগুলো থেকে এই দূরত্ব ২৫ থেকে ৩৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বলে তারা দাবি করেছেন।

উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়কারী ও যুবদল নেতা নুরুল আমিন আজাদ জানান, প্রশাসনিক কাজের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য করা যৌক্তিক হতে পারে না।

ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা ও যাতায়াত সুবিধা বিবেচনায় অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর করার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, হরতালের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া পক্ষটি যেকোনো মূল্যে সরকারের গেজেটকৃত স্থানে সদর দপ্তর বাস্তবায়নের পক্ষে।

ভূজপুরের বাসিন্দা আজগর ছালেহী ও আবিদুর রহমান বলেন, নতুন উপজেলা তাদের পরম পাওয়া এবং তারা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

গেজেটে যেখানে সদর দপ্তরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানেই তা বাস্তবায়নের দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানান।

একটি পক্ষ সরকারকে বিব্রত করতে হরতাল দিয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।