
ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তে চোরাচালানের সাম্রাজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সেদেশেই বিয়ে করেছেন এবং নিয়মিত ভারতীয় সিম ব্যবহার করেন কামাল উদ্দিন।
মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে অবৈধ ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের এই মূল হোতা গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বুধবার রাতে করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার কামাল উদ্দিন একই ইউনিয়নের আমলীঘাট এলাকার আমান উল্লাহর ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ ভারতীয় পণ্য বেচাকেনার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন কামাল।
বাংলাদেশের নাগরিক হলেও যোগাযোগের জন্য তিনি ভারতীয় নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন।
জোরারগঞ্জ থানায় ভারতীয় পণ্য আটকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২৭ ও ২৯ নম্বর দুটি মামলা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক করেরহাট এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের মূল হোতা কামাল উদ্দিন।
তার সঙ্গে এই সিন্ডিকেটে জড়িত রয়েছেন ইমন, জানু মিয়া, সেলিম উদ্দিন এবং ফারুক।
তাদের নেতৃত্বে মিরসরাই উপজেলার পূর্ব সীমান্তে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে থাকা ১৬ থেকে ১৮ কিলোমিটারের পাহাড়ি এলাকা দিয়ে পণ্য পাচার হয়।
দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে আসছে ভারতীয় চিনি, ফেনসিডিল, কাপড়, থ্রি পিস, গরু, হরলিক্স ও নানা রকম চকলেট।
এর আগে গত ২৪ জুন প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।
এরপর ২৮ জুন ১৮০ পিস ভারতীয় শাড়ি এবং ৩০ জুন ১৯টি ভারতীয় গরু উদ্ধার করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, কামাল উদ্দিন সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার কামালকে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি উল্লেখ করেন।
ওসি আরও জানান, কামাল ভারতীয় সিম ব্যবহার করেন এবং তিনি ভারতে বিয়ে করেছেন।
তার সিন্ডিকেটে থাকা একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান।
