সওজের উচ্ছেদের পরপরই রাতের আঁধারে নোয়াখালীতে পুনরায় দখল


সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি সুরক্ষায় স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় নোয়াখালীতে উচ্ছেদ অভিযানের পরপরই রাতের আঁধারে তা পুনরায় বেদখল হয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ী-রামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে।

অধিগ্রহণ করা জমিতে সওজ উচ্ছেদ অভিযান চালালেও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে একদিক থেকে উচ্ছেদ এবং অন্যদিক থেকে দখলের চক্র অব্যাহত রয়েছে।

গত দুই-তিন বছর ধরে সওজের লিজ নবায়ন বন্ধ থাকায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং নোয়াখালী-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন কোটি টাকার সম্পত্তি অবৈধ দখলদারদের কব্জায় চলে যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতের আঁধারে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা সওজের সোনাইমুড়ী বাজার সংলগ্ন শিমুলিয়া অংশের প্রায় ৩০০ ফুট জমি নতুন করে দখলে নেন।

দখলে অংশ নেওয়া এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক হাজার টাকা মজুরিতে রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নেতৃত্বে ৫০ জনের একটি দল এই কাজ করে।

অর্ধশতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে টিনের বেড়া দিয়ে কলেজ পুকুরপাড় থেকে শিমুলিয়া কালভার্ট পর্যন্ত এই জায়গা দখল করে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার মানববন্ধন করেন সোনাইমুড়ী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইসমাইল মোল্লা, শিমুলিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. শহীদ উল্লাহ এবং বাজারের ব্যবসায়ী নোমানসহ স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে সোনাইমুড়ী পৌর বিএনপির এক নেতা ও উপজেলা বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে এই দখলযজ্ঞ চলে। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা ও পৌর যুবদলের এক নেতা।

মানববন্ধনের পর স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন।

সরেজমিনে দেখা যায়, নোয়াখালী-ঢাকা মহাসড়কের সোনাইমুড়ী ইসলামগঞ্জ বাজারের প্রায় ৫০০ মিটার সওজের জমি অবৈধভাবে দখল করে দোকান গড়ে তোলা হয়েছে।

মহাসড়ক সংলগ্ন বারাহিনগর গ্রামের প্রবেশমুখ থেকে কাতার মসজিদ পর্যন্ত পুরোটাই অবৈধ দখলে রয়েছে।

এর মাঝে উদয়ন সমিতির নামে বনায়নের শর্তে জমি লিজ নিয়ে দেড়শো মিটার জায়গার ওপর টিনশেড ঘর তুলে দখল নেওয়া হয়েছে।

বজরা বাজারের উদয়ন সমিতির উপদেষ্টা নূর আলম জানান, সড়কের পাশে তাদের জমি থাকায় অ্যাপ্রোচ রোড ও বনায়নের জন্য সওজ থেকে ৩০ বছরের লিজ নিয়েছেন, তবে বর্তমানে তাদের খাজনা বকেয়া রয়েছে।

অন্যদিকে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশে মহাসড়ক সংলগ্ন ৩০০ ফুট জমি দখল করে হোটেল ও দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে।

সেখানে দখলে থাকা রোকন আলী মেম্বারের ছেলে মামুন জানান, তাদের দখলে পাঁচটি দোকান রয়েছে যা মহাসড়ক হওয়ার আগে লিজ নেওয়া ছিল, কিন্তু বর্তমানে লিজ নেই।

এছাড়া সোনাইমুড়ীর বজরা থেকে চাষীরহাট পর্যন্ত সওজের বিপুল পরিমাণ জমিও প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে।

জানা যায়, চার লেন প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ২৮ মে একনেক থেকে অনুমোদিত হয় এবং এর মেয়াদ ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

এই প্রকল্পের আওতায় বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ী-রামগঞ্জ সড়কের প্রশস্তকরণ, শক্তিশালীকরণ, ফুটপাত ও ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সওজ উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে নোয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

পরে সওজের সোনাইমুড়ী সড়ক শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবদুর রহিম জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন মন্ত্রণালয়ে মিটিংয়ে রয়েছেন।

দখলের বিষয়ে মো. আবদুর রহিম বলেন, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান চলছে এবং ভবিষ্যতে জমি দখলমুক্ত রাখতে সীমানা পিলার দেওয়া হবে।

তবে ইসলামগঞ্জ বাজার থেকে পোরকরা পর্যন্ত অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন।

শিমুলিয়া অংশে সরকারি জায়গা উদ্ধার হলেও অন্যান্য এলাকার দখলদারদের বিষয়ে সওজ কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।