
কৃষক কার্ড প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ কথা বলেছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের মধ্যম কচুয়াই ব্লকের মিলনচক্রের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে কৃষক কার্ডের মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের সমস্যা সমাধানে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষক কার্ড প্রস্তুত হয়ে গেলে কৃষকদের সব তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে কোনো সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃষিপণ্যের মূল্য নিয়ে কারসাজি করা সম্ভব হবে না। কৃষকরা যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, সরকার সেদিকে নজর রাখবে।
তিনি জানান, জমির মালিকানার ভিত্তিতে কৃষকদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে বলে জানান মন্ত্রী। প্রথমে প্রি-পাইলটিং, এরপর পাইলটিং এবং সর্বশেষ দেশব্যাপী এর বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে সারাদেশে কৃষক কার্ডের জন্য ৪৫ হাজার আবেদন পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের প্রায় চার কোটি কৃষক এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা, কৃষিঋণ এবং অন্যান্য সরকারি সেবা প্রকৃত কৃষকদের কাছে দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে নির্ভুলতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের তিনি নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রহিম।
এছাড়া পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদের মধ্যে কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিকসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কৃষকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
