পারকিতে অনুমতি ছাড়াই রাস্তায় পাইপ, দুর্ঘটনায় মৃত্যুঝুঁকিতে তিন বন্ধু


চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকিতে প্রশাসনের অনুমতি ও সতর্কসংকেত ছাড়া অবৈধভাবে রাস্তায় পাইপ বসানোয় মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন তিন মোটরসাইকেল আরোহী।

বালু ভরাট প্রকল্পের ওই পাইপের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুবাইপ্রবাসী মো. মহিউদ্দিন (৩৫) গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে পার্কভিউ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।

তার অপর দুই বন্ধু আনিস এবং মিজানও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে আটটার দিকে পারকি চরের চায়না পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রস্তাবিত বালু ভরাটের স্থান সার্ভিস এরিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মহিউদ্দিনের ছোট ভাই মো. নাঈম জানান, বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মহিউদ্দিন তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।

সার্ভিস এরিয়া এলাকায় পৌঁছালে অন্ধকারে রাস্তার ওপর থাকা পাইপের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে এবং তারা ছিটকে পড়েন।

জানা গেছে, পারকি চর থেকে ড্রেজারের বালু রাস্তার অপর পাশে চায়না পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি প্রকল্পে ভরাটের কাজ চলছে।

এই বালু ভরাটের সাব-ঠিকাদারি নিয়েছেন মো. ইকবাল নামের এক ব্যক্তি।

রাস্তা খুঁড়ে পাইপ সংযোগ দেওয়ার জন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসন বা সড়ক কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেননি এবং কোনো সতর্কতাসংকেত ব্যবহার করেননি।

অনুমতি ও সতর্কসংকেত না রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-ঠিকাদার মো. ইকবাল একুশে পত্রিকাকে বলেন, সরকারি ও বিদেশি কোম্পানির কাজে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি রয়েছে, তাই প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন নেই।

সতর্কসংকেত না দেওয়া ও দুর্ঘটনার দায় প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

সরকারি বা বিদেশি প্রকল্পের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীন জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া রাস্তা খুঁড়ে জনগণের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে নিয়মনীতি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।