প্রবাসী ছেলের অকাল মৃত্যুশোক কি মায়ের প্রাণ কেড়ে নিল?


ওমানে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেশে ফেরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা মো. জামালের মৃত্যুর মাত্র ১১ দিনের মাথায় মারা গেলেন তার মা।

ছেলের মৃত্যুশোকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছে পরিবার।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মো. জামালের মা আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

তবে ওমানে কর্মরত ছেলের দুর্ঘটনার খবর এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পর মৃত্যুর ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক ভেঙে পড়েন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে।

শনিবার দুপুরের দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থতা অনুভব করলে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

জীবিকার তাগিদে ঋণ করে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী মো. জামাল।

গত বছরের ডিসেম্বরে ওমানের আল আমরাত এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজের সময় নিচে পড়ে তার মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে।

এরপর তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন।

চিকিৎসার বিপুল ব্যয়ভার মেটাতে না পেরে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল।

বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গত ৭ জুলাই নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামাল মৃত্যুবরণ করেন।

ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই মায়ের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।