একুশে পত্রিকায় সংবাদ: আনোয়ারায় অবৈধ পাইপ অপসারণে বাধা, ক্ষতিপূরণ দাবি


আনোয়ারা উপজেলার পারকিতে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পাইপ অপসারণ করতে গিয়ে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বাধার মুখে পড়েছে প্রশাসন।

দুর্ঘটনায় আহত এক যুবকের ভাইয়ের বাধার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে অনুমতি ছাড়া সড়ক কেটে পাইপ বসানোর অপরাধে সাব-ঠিকাদার ও ড্রেজার মালিক ইকবালকে তলব করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীন।

পারকিতে অনুমতি ছাড়া রাস্তায় পাইপ, দুর্ঘটনায় মৃত্যুঝুঁকিতে তিন বন্ধু শিরোনামে একুশে পত্রিকায় একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এই প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে জনস্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন ইউএনও মো. মহিন উদ্দীন।

রোববার (১৯ জুলাই) আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী সরেজমিনে গিয়ে সড়ক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ওই পাইপটি অপসারণের কাজ শুরু করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী জানান, তারা পাইপটি অপসারণ শুরু করার পর আহত একজনের ভাই এসে বাধা দেন।

আগে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তা না দেওয়া পর্যন্ত পাইপটি তুলতে দেওয়া হবে না বলে ওই ব্যক্তি দাবি করেন।

জাহেদুল আলম চৌধুরী আরও জানান, এই পরিস্থিতিতে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সমাধান করে পাইপটি অপসারণ করা হবে।

এদিকে ইউএনও মো. মহিন উদ্দীন জানান, সরকারি অনুমতি ছাড়া সড়ক কেটে পাইপ বসানো একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

সড়কটিকে ঝুঁকিতে ফেলা এবং দুর্ঘটনার কারণ সৃষ্টি করায় সাব-ঠিকাদার ইকবালকে সশরীরে উপজেলা কার্যালয়ে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারকির চরের মোহনা থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিলেন সাব-ঠিকাদার ইকবাল।

সেই বালু পারকি সমুদ্র সৈকত এলাকার চায়না পাওয়ার প্লান্ট নামের একটি প্রস্তাবিত জায়গায় নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

অনুমতি ছাড়াই পারকি সড়কের ওপর দিয়ে বিশালাকার পাইপ বসানোর ফলে সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি এই পাইপের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিন মোটরসাইকেল আরোহী বন্ধু মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হন।

বর্তমানে দুর্ঘটনায় কবলিত ওই তিন যুবকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।