
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা হাতছাড়া করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলটিই মেসি-যুগের আর্জেন্টিনার মহাকাব্যিক ট্র্যাজেডির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০১০ সালের পর স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল।
লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসদের ক্ষিপ্র গতির উইং-প্লে এবং রদ্রি ও পেদ্রিদের নিখুঁত তিকিতাকার সামনে স্কালোনির রক্ষণাত্মক কৌশল এদিন পুরোপুরি পরাস্ত হয়েছে। পুরো ম্যাচে ৬৬.৩ শতাংশ বল দখলে রেখে স্প্যানিশরা আধিপত্য বিস্তার করে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা মাত্র ৩৩.৭ শতাংশ বলের মালিকানা নিয়ে কোণঠাসা ছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্পেনের ১৭টি শটের বিপরীতে আর্জেন্টিনার গোলমুখে কোনো শটই ছিল না।
ম্যাচজুড়ে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের কারণে লিওনেল মেসিকে বল থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। তিনি পুরো ম্যাচে মাত্র ৫৪ বার বল স্পর্শ করেছেন এবং একবারও স্পেনের পেনাল্টি বক্সে ঢুকতে পারেননি। সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার মাইকা রিচার্ডস বিবিসিকে জানান, বল নিজেদের দখলে রেখে মেসিকে উল্টো দিকে দৌড়াতে বাধ্য করাই ছিল স্পেনের জয়ের মূল ভিত্তি।
ম্যাচের অন্তিমলগ্নে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় আর্জেন্টিনাকে ১০ জন নিয়ে শেষ করতে হয়। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ১৩টি অতিমানবীয় গোল সেভ করে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও স্পেনের আগ্রাসনের সামনে তা যথেষ্ট ছিল না। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের আক্রমণাত্মক ঝড়ের বিপরীতে স্কালোনির শিষ্যদের মাঝমাঠের আত্মসমর্পণ ছিল স্পষ্ট।
এদিকে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পরপরই মাঠে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এরিক গার্সিয়ার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হাতাহাতিতে রূপ নিলে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে প্রবেশ করেন। পুরো ম্যাচজুড়ে ৫০টির বেশি ফাউল হয়, যার ফলে এনজো ফার্নান্দেজসহ আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের কার্ড দেখতে হয়েছে।
