বন্যায় ডুবেছে পটিয়ার ১৪০০ পুকুর, ক্ষতি ৬ কোটির বেশি


শোভনদণ্ডীর মাছচাষি মো. লোকমান ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্ধশতাধিক পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। স্বপ্ন ছিল একটু ভালোভাবে বাঁচার, ঋণ শোধ করার।

কিন্তু টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে তাঁর ১৫টি পুকুর সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে পানিতে। ৮ থেকে ১০ জন কর্মচারীর সংসারও এখন অনিশ্চিত।

লোকমান এখন পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে শুধু ক্ষতচিহ্ন দেখেন- ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি, আর হাতে কিছুই নেই।

১৪০০ পুকুর ডুবল, কোটি টাকার মাছ ভেসে গেল

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় বন্যার আঘাত মৎস্যখাতে যে ক্ষত রেখে গেছে, তার হিসাব এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। উপজেলা মৎস্য অফিস জানাচ্ছে, উপজেলার প্রায় ১ হাজার ৪০০টি পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতি প্রায় ৩ কোটি টাকা।

শোভনদণ্ডী, ছনহরা, ভাটিখাইন, খরনা, আশিয়া, কাশিয়াইশ, কুসুমপুরা ও পৌরসভা এলাকার মাছচাষিদের পুকুর ডুবেছে। কেলিশহর, হাইদগাঁও, ধলঘাট ও দক্ষিণ ভূর্ষির পোনা চাষিরাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

পটিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, ইউনিয়নভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পর সরকার বরাদ্দ দিলে ক্ষতিগ্রস্তরা সহায়তা পাবেন।

দুধ বিক্রি হলো না, গবাদিপশু মরল- প্রাণিসম্পদেও ৩ কোটির ক্ষতি

মৎস্যখাতের পাশাপাশি পটিয়ার প্রাণিসম্পদ খাতও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। উপজেলায় ৩০০টির বেশি ছোট-বড় ডেইরি খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। বন্যায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় দুধ বাজারজাত করাই সম্ভব হয়নি।

পটিয়া ডেইরি খামার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রাসেল বলেন, প্রতি লিটার দুধের বাজারমূল্য ৮০ টাকা হলেও অনেক খামারি ৩০ থেকে ৪০ টাকাতেও বিক্রি করতে পারেননি। বিপুল পরিমাণ দুধ নষ্ট হয়েছে। পানিতে আটকে পড়ে অনেক গবাদিপশুও মারা গেছে।

পটিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, প্রাণিসম্পদ খাতে প্রাথমিক ধারণায় ৩ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তালিকা সম্পন্ন হলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট হবে।

মৎস্য খাতে প্রায় ৩ কোটি আর প্রাণিসম্পদে আরও ৩ কোটির বেশি- পটিয়ায় দুই খাত মিলিয়ে বন্যার ক্ষতি ৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

লোকমানের পুকুর এখনো কাদায় ভরা। ব্যাংকের ঋণের কিস্তি আসবে, কিন্তু মাছ নেই। ডেইরি খামারিদের গরু আছে, কিন্তু দুধ বিক্রির পথ ছিল না। খামারিরা বলছেন, সরকারি সহায়তা না আসলে অনেকে আর খামার টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।

তালিকা হচ্ছে, প্রতিবেদন যাচ্ছে- কিন্তু পটিয়ার খামারিরা এখন শুধু একটাই প্রশ্নের জবাব চান: সাহায্য কবে আসবে?