বাঁশখালীতে কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে ইমামকে মারধর ও কামড়


চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মসজিদ-মাদ্রাসার কমিটি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক ইমামকে মারধর ও কামড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দক্ষিণ সরল আল্লামা সিকান্দার শাহ্ (রহ.) ইসলামী কমপ্লেক্সে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই ইমামের নাম মাওলানা আবদুল আখের (৪৬)। আহত অবস্থায় তাকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত কাশেম উল্লাহ ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা সিকান্দার শাহ্ (রহ.)-এর ছেলে। তিনি বর্তমানে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সিকান্দার শাহ্ (রহ.) মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তার ছেলে তৈয়ব উল্লাহ।

পরবর্তীতে মসজিদের জমিদাতারা আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তৈয়ব উল্লাহ তা দিতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ ওঠে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সালের জুন মাসে এলাকাবাসী মাওলানা সিকান্দার শাহ্ (রহ.)-এর বড় ছেলেকে সভাপতি করে নতুন কমিটি গঠন করে, যা ২০২০ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২০ সালে কাশেম উল্লাহ ও তৈয়ব উল্লাহ জোরপূর্বক মসজিদ-মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নেন। তারা ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলেও কোনো হিসাব-নিকাশ প্রকাশ করেননি।

মসজিদ-মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির আরেক সহ-সভাপতি মো. সিরাজউদ্দৌলা জানান, প্রায় এক বছর আগে কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে মাওলানা আবদুল আখেরকে ইমাম ও খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কিন্তু শুরু থেকেই অভিযুক্ত কাশেম উল্লাহ এই ইমামতির ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে মো. সিরাজউদ্দৌলা উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকালে কাশেম উল্লাহ ইমামকে মসজিদের ছাদে থাকা ট্যাংকের পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। এই নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কাশেম উল্লাহ তাকে মারধর করেন এবং হাতে কামড়ে দেন।

ভুক্তভোগী মাওলানা আবদুল আখের বলেন, নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই কাশেম উল্লাহ তাকে চাকরি করতে দেবেন না বলে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

কাশেম উল্লাহ নিজেই ইমামতি করতে চান, তবে মুসল্লিরা তার পেছনে নামাজ পড়তে রাজি নন বলে ইমাম দাবি করেন।

ইমাম আরও জানান, পাইপের পানি ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের সময় তিনি কমিটিকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত আসার আগেই তাকে মারধর করে হাতে কামড় দেওয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাশেম উল্লাহ জানান, তার বাবা তিলে তিলে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। অথচ বর্তমান কমিটিতে তাদের রাখা হয়নি।

ইমামকে মারধরের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, অজুর পানি দিয়ে হাঁড়ি-পাতিল ধোয়ার কারণে তিনি নিষেধ করেছিলেন। তখন ইমাম তাকে মারতে উদ্যত হলে একটি পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তিনি পড়ে যান, তাকে কোনো মারধর করা হয়নি।