একুশে পত্রিকায় সংবাদ: পাইপ সরিয়ে দায়ীদের নোটিশ দিলেন ইউএনও


গত শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে আটটা। পারকি চরের চায়না পাওয়ার প্ল্যান্টের সার্ভিস এরিয়া এলাকায় অন্ধকারে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন তিন বন্ধু। হঠাৎ সড়কের ওপর পড়ে থাকা বিশাল পাইপে ধাক্কা। তিনজনই ছিটকে পড়লেন। দুবাইপ্রবাসী মো. মহিউদ্দিন (৩৫) এখন পার্কভিউ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে। বন্ধু আনিস ও মিজান চট্টগ্রাম মেডিকেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায়। একটি অবৈধ পাইপ, কোনো অনুমতি নেই, কোনো সতর্কসংকেত নেই— আর তিনটি জীবন হুমকিতে।

সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর একুশে পত্রিকায় ‘পারকিতে অনুমতি ছাড়া রাস্তায় পাইপ, দুর্ঘটনায় মৃত্যুঝুঁকিতে তিন বন্ধু‘ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পরই নড়ে বসল প্রশাসন।

ইউএনওর দ্রুত পদক্ষেপে সরল বিপজ্জনক পাইপ

আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দীন বিষয়টি জনস্বার্থে আমলে নিলেন। সোমবার বিকেলে স্থানীয়দের বুঝিয়ে প্রশাসন সেই বিশালাকার ঝুঁকিপূর্ণ পাইপটি সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়।

তবে পথ একেবারে মসৃণ ছিল না। রোববার (১৯ জুলাই) উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী পাইপ অপসারণ করতে গেলে আহত মহিউদ্দিনের ছোট ভাই মো. নাঈম ক্ষতিপূরণের দাবিতে বাধা দেন। ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত পাইপ তুলতে দেবেন না বলে জানান তিনি। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশের সহযোগিতা নিতে হয়। অবশেষে সোমবার বিকেলে পাইপটি সরানো হয়। পাইপ অপসারণের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন।

দায়ীদের তলব, শুনানি ২৩ জুলাই

শুধু পাইপ সরিয়েই থামেননি ইউএনও মহিন উদ্দীন। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ নজীম উদ্দিন, গিয়াসউদ্দীন, ইউনুস ও মহিউদ্দিনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি অনুমতি ছাড়া সড়ক কেটে পাইপ বসানোর অপরাধে সাব-ঠিকাদার ও ড্রেজার মালিক মো. ইকবালকে তলব করা হয়েছে। নোটিশ দেওয়া হয়েছে মূল প্রতিষ্ঠান ঢাকার কাকরাইল মোড়ের প্রিমিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপককেও। আগামী ২৩ জুলাই বিকেল তিনটায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উভয় পক্ষকে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাব-ঠিকাদার মো. ইকবাল বালু উত্তোলনের জন্য কোনো প্রশাসনিক অনুমতি বা সতর্কসংকেত ছাড়াই পারকি সড়কের ওপর এই পাইপ বসিয়েছিলেন। সেই অবহেলার মাশুল দিচ্ছেন তিন তরুণ — একজন লাইফ সাপোর্টে, দুজন আশঙ্কাজনক।

একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর একজন ইউএনওর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রমাণ করল, প্রশাসন চাইলে জনস্বার্থে সত্যিই দ্রুত কাজ করতে পারে। মো. মহিন উদ্দীন শুধু পাইপ সরাননি, দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই সাহসী ভূমিকা পারকির মানুষের জন্য একটুখানি স্বস্তির বার্তা।