
দেশে মানব পাচারকারীরা সফল হওয়ার মূল কারণ আর্থিক দারিদ্র্যের চেয়ে শিক্ষার দারিদ্র্য অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছেন সাহিত্যগবেষক ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, যারা পাচারের শিকার হয়ে দুর্বিষহ জীবনের মুখোমুখি হচ্ছেন, এটি শুধু তাঁদের বিষয় নয় বরং গোটা জাতির বিষয়।
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ বিষয়ে এই রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও অস্ট্রেলিয়া সরকার।
এতে ‘অষ্টম শ্রেণি থেকে কলেজ পর্যায়’ এবং ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়’ নামের দুটি বিভাগে সারা দেশের ৮৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় ৩১ জনের রচনা ফাইনালিস্ট হিসেবে পুরস্কার ও সনদ পায় এবং দুই ক্যাটাগরিতে সেরা হয় ছয়জন শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সিনিয়র ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী নিলয় বিশ্বাস।
এই বিভাগে রানারআপ হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফাহাদ হোসেন ফাহিম।
জুনিয়র ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কক্সবাজার জেলার খুরুশকুল হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদ্রাতুন নাঈম তাকওয়া।
এই বিভাগে যৌথভাবে প্রথম রানারআপ হয়েছেন টেকনাফের শহীদ আজিজুল হক বালিকা মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া সালমা এবং টেকনাফের সাবরাং উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত শাহীন কমল।
এছাড়া তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন গাজীপুরের পিরুজালী আদর্শ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সেঁজুতি আক্তার আয়েশা।
নারায়ণগঞ্জের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান তার রচনায় ‘মানুষ বিক্রির জন্য নয়’ এমন অর্থবহ বার্তা দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক এবং বিশেষ অতিথি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন লেখক, গবেষক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আফসান চৌধুরী, সাংবাদিক রাজীব নূর এবং কথাসাহিত্যিক কিযী তাহনিন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আফসানা বেগম তাঁর মালয়েশিয়া প্রবাস জীবনে দেখা অনেক বাংলাদেশির দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে সচেতনতার ওপর জোর দেন।
ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধের লড়াই মূলত মানুষের মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ অভিবাসনের অধিকার নিশ্চিত করার লড়াই।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান জানান, অভিবাসী প্রেরণে বাংলাদেশ বিশ্বে ষষ্ঠ হলেও পাঠ্যবইয়ে তাদের জীবনের কথা উঠে আসে না।
তিনি আরও বলেন, শুধু পুরস্কার দেওয়া নয়, গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি শিক্ষার্থীদের চিন্তায় যুক্ত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ঢাকার ওয়াইডব্লিউসিএ (YWCA) উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোবাশশিরা আনজুম জানান, রচনা লিখতে গিয়ে তিনি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ভয়াবহতা সম্পর্কে প্রথম জানতে পারেন।
জুনিয়র বিভাগের রানারআপ আরাফাত শাহীন কমল তার বক্তব্যে টেকনাফে মানব পাচার ও অপহরণের মতো ঘটনাগুলো স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হওয়ার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে সমাধানের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে ফিরে আসা মন্নান ছৈয়াল এবং কক্সবাজারের মানব পাচার সারভাইভার অংঅংও জুয়েল নিজেদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন।
সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসনের গুরুত্ব তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
