ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরা, তিন সপ্তাহ পর স্বয়ংক্রিয় মামলা


দেশের মহাসড়কে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৬টি পয়েন্টে এই ক্যামেরা স্থাপন করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

আগামী তিন সপ্তাহ মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের সচেতন করা হবে। এরপর আইন লঙ্ঘনকারীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা করবে পুলিশ।

বর্তমানে পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পুরোপুরি এআই ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। কিছুদিন সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পর স্বয়ংক্রিয় মামলা শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, পুলিশের নিজস্ব অর্থায়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

অন্যদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের অধীনে ঢাকা-মাওয়া সড়কেও এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি পরিচালনার জন্য শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে হাইওয়ে পুলিশ।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রযুক্তিগত নজরদারির আওতায় ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সড়ক কীভাবে আনা যায়, তা নিয়ে একটি সমীক্ষা চলছে।

এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের চিঠি আদান-প্রদান চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এআই ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মামলার পাশাপাশি অপরাধ চক্র শনাক্তের কাজও সহজ হবে। সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া মহাসড়কে কোনো যানবাহন থামানো হবে না।

তবে মাদক ও চোরাচালানসহ কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হবে।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, গত ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।

রাজধানীতে আগে ১৫টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা থাকলেও বর্তমানে তা ১৯টি ইন্টারসেকশনে উন্নীত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়েও এ ক্যামেরা বসানো হবে।

এসব ক্যামেরায় গতিসীমা লঙ্ঘন, বিপজ্জনক লেন পরিবর্তন, হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালনা, অবৈধ পার্কিং এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মতো অপরাধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলা রুজু করা হচ্ছে।

ট্রাফিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত এসব ক্যামেরার মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৫০০টি মামলা করা হয়েছে।

এর মধ্যে গত ১ জুন পর্যন্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৩১২টি মামলা হয়েছে বাসের বিরুদ্ধে। ব্যক্তিগত গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১৫০টি।

বাকি ২২৭টি মামলা হয়েছে মোটরসাইকেল, পিকআপ, লেগুনা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে। আইন ভাঙার সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল মোড়ে।