
টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে নদীর পানির তোড়ে চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৬টি বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে।
এ ছাড়া মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় তিন শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৫ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে চকরিয়া, নবগঠিত মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ সময় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়া, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ ও নদীর তীর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা ও রাজাখালী ইউনিয়নের উপকূলীয় অঞ্চলেও বন্যার তাণ্ডবে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।
কোনাখালীতে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে জোয়ার-ভাটার পানি প্রবেশ করছে।
একই সময়ে পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের আনিছপাড়া এলাকায় ভাঙনের কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী, মরংঘোনা এবং পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের আনিছপাড়া অংশে তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে।
নদীভাঙনের তীব্রতার বিষয়টি উল্লেখ করে চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিম জানান, টেকসই সিসিব্লক দিয়ে তীর সংরক্ষণ না করলে তিন শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, ভাঙনের বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে কক্সবাজার ও বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিয়ন) মো. শফিকুল ইসলাম।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান, কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম এবং বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও নদীভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (চকরিয়া-কুতুবদিয়া জোন) সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামত ও নদীভাঙন ঠেকাতে জরুরি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তাঁরা অর্থ বরাদ্দ চেয়ে দপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন।
