
মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা শেষে ফিরে সুস্থ জীবনে ফেরার আশা জাগিয়েছিলেন এক যুবক।
কিন্তু পুনর্বাসনের মাত্র তিন-চার মাসের মাথায় পুনরায় মাদকে আসক্ত হয়ে নিজের বাবা ও মাকে নির্মমভাবে খুন করেছেন তিনি।
মাদকের ভয়াল থাবায় একটি পরিবারের এমন করুণ পরিণতির ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা-কর্ণফুলী অঞ্চলে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা গ্রামের মহাজন বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ৬৫ বছর বয়সী স্বপন দাশগুপ্ত এবং তাঁর স্ত্রী কল্পনা দাশগুপ্ত।
এই জোড়া খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে ৪০ বছর বয়সী রোমিও দাশ গুপ্তকে (রোমিও দাশ) আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, রোমিও দাশ দীর্ঘদিন ধরে মাদকে আসক্ত ছিলেন।
পরিবার তাঁকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য পাবনার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েছিল। তিন-চার মাস আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।
কিন্তু ফিরে আসার পর পুনরায় মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
শনিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে নিজ ঘরে ছেলে রোমিও দাশ গুপ্তের সঙ্গে মা কল্পনা দাশগুপ্তের কথা-কাটাকাটি হয়।
মাদক সেবনে বাধা দেওয়া বা শুধরানোর বিষয় নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে নেশাগ্রস্ত রোমিও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
তিনি হাতের কাছে থাকা কাঁচি দিয়ে মায়ের শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই কল্পনা দাশগুপ্ত মারা যান।
স্ত্রীকে বাঁচাতে স্বামী স্বপন দাশগুপ্ত ছুটে এলে তাঁকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন ছেলে রোমিও। তিনি গুরুতর আহত হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন জানান, আহত অবস্থায় স্বপন দাশগুপ্তকে আনা হয়েছিল।
তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরপরই স্বপন দাশগুপ্ত মারা যান বলে জানান এই চিকিৎসক।
খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা-পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, অভিযুক্ত ছেলে রোমিও দাশ গুপ্তকে আটক করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
মাদকের আগ্রাসন থেকে সন্তানকে বাঁচাতে দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাবা-মাকেই প্রাণ দিতে হলো।
