সীতাকুণ্ডে ৩০ নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা, অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি


স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৩০ জন নারী উদ্যোক্তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

একই সঙ্গে কারুঘর ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরও ৫০ জন নারী উদ্যোক্তার হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

শনিবার সীতাকুণ্ডের সিকিউর সিটি শপিং কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায় কারুঘর ট্রেনিং সেন্টারের নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্র উদ্বোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ট্রাই ওমেন অ্যান্ড ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং কারুঘর ট্রেনিং সেন্টার যৌথভাবে এই সম্মাননা ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সীতাকুণ্ডের উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানানো হয়।

এদের মধ্যে রয়েছেন ইয়ং পাওয়ার ফর সোসাল অ্যাকশন-ইপসার নির্বাহী প্রধান ড. আরিফুর রহমান এবং বি অ্যান্ড এফ কেয়ার ফাউন্ডেশন।

এছাড়া সীতাকুণ্ডের সাবেক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম এবং সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রাই ওমেন অ্যান্ড ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং কারুঘর ট্রেনিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা আইরিন নেছা মুনমুন।

আইরিন নেছা মুনমুন ২০২৪ সালে সীতাকুণ্ড উপজেলা ও চট্টগ্রাম জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়ে জয়িতা পদক অর্জন করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সীতাকুণ্ডের সাবেক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম।

আরও উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ডের সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এবং সীতাকুণ্ড সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লায়ন গিয়াস উদ্দিন।

ইপসার ট্রেনিং অফিসার শামিম আহমেদ এবং সিনিয়র সাংবাদিক মিজানুর রহমান ইউসুফ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ দিদারুল আলম অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোবারক আলী এবং বি অ্যান্ড এফ কেয়ার ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক লায়ন আশরাফুল আলম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা জানান, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী।

তাঁরা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠলে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন বলে অতিথিরা মন্তব্য করেন।

এজন্য নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেন।

বক্তারা আরও জানান, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারুঘর ট্রেনিং সেন্টার সীতাকুণ্ডের নারীদের স্বনির্ভর করে তুলতে কাজ করছে।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাঁচ শতাধিক নারীকে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করেছে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।