আনোয়ারায় চীনা জোন, বদলাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চিত্র


আলী নুর জেমস দীর্ঘ দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছিলেন। আনোয়ারার এই সামাজিক সংগঠক জানতেন, একদিন কর্ণফুলীর পাড়ের সেই ৮০০ একর জমিতে কারখানার চিমনি উঠবে, কাজের ডাক আসবে। কিন্তু বছরের পর বছর শুধু কাগজ আর আশ্বাস। এবার অবশেষে সেই দিন এলো। আগামীকাল সোমবার আনোয়ারায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হচ্ছে চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের।

জেমস বলেন, “শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের অর্থনীতি বদলে যাবে।”

এক দশকের অপেক্ষার পর স্বপ্নযাত্রা শুরু

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরে এই প্রকল্পের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তারপর কেটে গেছে প্রায় এক দশক— জটিলতা, ঠিকাদার বদল, চুক্তি আলোচনার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে আগামীকাল সোমবার কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারার প্রকল্প এলাকায় আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে সিইআইজেডের।

উদ্বোধন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঞ্চে থাকবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং স্থানীয় সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম।

সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু। সাড়ে ১১টায় বিশেষ অতিথিদের আগমনের পর স্বাগত বক্তব্য, অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষর, স্লোগান উন্মোচন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন এবং বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে অনুষ্ঠান।

এক লাখ কর্মসংস্থানের স্বপ্ন, বদলাবে দক্ষিণ চট্টগ্রাম

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে ৮০০ একর জমিতে গড়ে উঠতে যাওয়া এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে রফতানিমুখী ভারী শিল্প, তৈরি পোশাক, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আসবে। স্থানীয় তরুণদের প্রত্যাশা, এক লাখেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে। বেকারত্ব কমবে, জীবনমান বাড়বে।

বিজিএমইএসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই জোন থেকে সহজে দেশীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করা গেলে পোশাক খাতের উৎপাদন খরচ ও লিড-টাইম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি কর্ণফুলী টানেলের ব্যবহারও কয়েকগুণ বাড়বে।

আনোয়ারা ইউএনও মো. মহিন উদ্দীন বলেন, “এটি আনোয়ারাবাসীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের একটি দিন। এই বৃহৎ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে তা পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের চিত্র বদলে দেবে।” উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো জোনের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আলী নুর জেমসের মতো আনোয়ারার মানুষ আগামীকালের অনুষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে আছেন বুকভরা আশা নিয়ে। ভিত্তিপ্রস্তর বসছে— এবার শুধু দেখার পালা, কথা কতটুকু কাজে পরিণত হয়।