
চট্টগ্রামের নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর কোথায় হবে, তা নিয়ে এর আওতাধীন ছয়টি ইউনিয়নে ত্রিমুখী উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সদর দপ্তর পুনর্নির্ধারণের দাবিতে উত্তরের তিনটি ইউনিয়নে যখন সর্বাত্মক হরতাল চলছে, তখন সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছেন ভূজপুরের বাসিন্দারা।
অন্যদিকে, নবগঠিত এই উপজেলায় অন্তর্ভুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণের সুয়াবিল ইউনিয়নের মানুষ।
গত ৮ জুলাই জাতীয় বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয়-সংক্রান্ত কমিটির (নিকার) অনুমোদনে একটি সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়।
এতে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠনের কথা জানানো হয় এবং সদর দপ্তর পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় নির্ধারণ করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাটের বাসিন্দারা বর্তমান অবস্থানটিকে ভৌগোলিকভাবে অযৌক্তিক দাবি করে আসছেন।
তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান অবস্থানে সদর দপ্তর থাকলে উপজেলার একটি বড় অংশের মানুষকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সেবা নিতে হবে।
দাবি আদায়ে তাঁরা ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক হরতাল পালন করছেন এবং এর আগে মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়কারী ও যুবদল নেতা নুরুল আমিন আজাদ জানান, প্রশাসনিক কাজের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য করা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।
ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াত সুবিধা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
চলমান ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচিকে সম্মান জানিয়ে সরকার ব্যবস্থা নিলেই তাঁরা ঘরে ফিরবেন বলে নুরুল আমিন আজাদ উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় ভূজপুর ইউনিয়নে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার বিকেলে ভূজপুর ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে আনন্দ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ এইচ এম শাহজাহান চৌধুরী শিপন এবং হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা অংশ নেন।
হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী জানান, আনন্দ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন।
গেজেটে যেখানে সদর দপ্তরের কথা বলা হয়েছে, সেখানেই সবার তৃপ্তি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
একটি পক্ষ সরকারকে বিব্রত করে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং জনভোগান্তির কারণে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেও মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী মন্তব্য করেন।
অপরদিকে, দক্ষিণের সুয়াবিল ইউনিয়নের বাসিন্দারা নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় যুক্ত হতে নারাজ।
তাঁরা মূল ফটিকছড়ি উপজেলাতেই থাকতে চান এবং প্রশাসনিক সেবা গ্রহণে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কায় সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন।
সুয়াবিলের বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর মো. মনজুরুল কিবরীয়া জানান, জনমত ছাড়াই সুয়াবিলকে নতুন উপজেলায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও জনস্বার্থবিরোধী।
তিনি জানান, সুয়াবিল থেকে বর্তমান উপজেলা সদর মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলেও প্রস্তাবিত নতুন সদর দপ্তর ১৫ কিলোমিটার দূরে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার যে মূল উদ্দেশ্য ছিল, তা এই বিরোধের কারণে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, আন্দোলন ও ক্ষোভের বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেও ইউএনও নিশ্চিত করেন।
