কাজ ফেলে গেলেন ঠিকাদার, পটিয়ায় বাঁধ ভাঙার শঙ্কা


চট্টগ্রামের পটিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১৩৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্পে ব্লক বসানোর কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারের চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এর ফলে বর্ষায় অতিরিক্ত পানির চাপে শ্রীমাই খালের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন পার করছেন দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

তবে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামান ব্রাদার্স ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, শ্রীমাই খালের দুই পাশের বাঁধে সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকায় ব্লক বসানোর কথা রয়েছে।

এই মেগা প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ ১৩ হাজার ৫৯২টি এক ধরনের এবং ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৩টি অন্য ধরনের ব্লক স্থাপন করা হবে।

পাশাপাশি ৫১০ মিটার সংযোগ সড়ক, ২১০ মিটার আরসিসি সেচ খাল, একটি পানি নিষ্কাশন কাঠামো (ইনলেট) এবং ৩০০ মিটার খাল পুনঃখননের কাজ রয়েছে।

এছাড়া একটি কন্ট্রোল রুম, আনুষঙ্গিক সরঞ্জামসহ ৮৪ মিটার দীর্ঘ ও ৩ মিটার প্রস্থের একটি হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটিতে ০.৭০ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ এবং বনায়নের কাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পাউবো সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটির ৬৬ শতাংশ কাজ শেষ হলেও বর্তমানে বর্ষার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ১০০ মিটার এলাকায় ব্লক বসানোর কাজ পায় জামান ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এর মধ্যে ৯০০ মিটার ব্লকের কাজ শ্রীমাই খালের রাজঘাটা সেতু এলাকায় হওয়ার কথা।

বাকি ২০০ মিটারের কাজ ভাটিখাইন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মোতাহের নবী মেম্বারের নতুন বাড়ি এলাকায় নির্ধারিত ছিল।

কিন্তু ওই ২০০ মিটার অংশে ব্লকের কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

বাঁধ কাটা অবস্থায় থাকায় চলতি মাসের শুরুতে পাহাড়ি ঢলে শ্রীমাই খালের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে পানি ঢুকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

ভাটিখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব (মেম্বার) জানান, মোতাহের নবী মেম্বারের নতুন বাড়ি এলাকায় কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার চলে গেছেন।

স্থানীয়রা প্রশ্ন করলে ঠিকাদার জানান যে তাঁরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন।

আবু তালেব বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পাউবো কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বাঁধ কেটে ফেলার পর ব্লক না বসানোয় খালের পানি ঢুকে দুই ইউনিয়নের মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।

জামান ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মনির হোসেন স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি জানান, কার্যাদেশ ও নকশা অনুযায়ী যতটুকু কাজ ছিল, তা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিস্তারিত তাদের কাছেই জানা যাবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাটিখাইন ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোতাহের মেম্বারের নতুন বাড়ি এলাকায় নিচের অংশে ব্লক বসানো হলেও ওপরের অংশে বসানো হয়নি।

ওপরের অংশে ব্লক বসানোর জন্য বাঁধ কাটা হলেও স্থানীয়দের উচ্চতা বাড়ানোর দাবি ঠিকাদার মানেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে ভাটিখাইন সেতু এলাকায় খালের পাশে বসানো অনেক ব্লক সরে গিয়ে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং ব্লকগুলো পুনরায় বসানো না গেলে বাঁধে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।

তবে শুষ্ক মৌসুম এলে ব্লকগুলো পুনরায় বসানো হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে।

পটিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী মাহবুব হোসেন জানান, ওই স্থানে ব্লকের কাজ করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হয়।

বর্ষা চলে আসায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বর্ষা শেষ হলে তা সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে ঠিকাদার কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন—এই দাবি সত্য নয় এবং সেখানে এখনও কাজ শেষ হয়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

পটিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার জানান, ১৩৩ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে এবং বর্ষার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ আছে।

কিছু অংশে যেসব ত্রুটি রয়েছে, তা সমাধান করা হবে এবং বর্ষা শেষ হলে পুনরায় কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।